
শাহীন শহীদঃ
নাগেশ্বরীতে রাজারহাট উপজেলার দুইজন হিন্দু মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজার হাট থানায় দায়েরকৃত জিডি নং ৭৭৮ তারিখ ১৬- ০৯-২৫ এর প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় মুফতি ফেরদাউস হাসানের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি কে কেন্দ্র করে মহিলাদের পর্দার খেলাপ ও অন্যান্য দাবীতে স্থানীয় আলেম সমাজ সংবাদ সম্মেলনে করেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর১২ টায় নাগেশ্বরী পৌর সভার বাসষ্টান্ড জামে মুসজিদের দ্বিতীয় তলার ক্যাডেট মাদ্রাসার অফিস রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলেম সমাজের প্রতিনিধি মুফতি আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও মুফতি ফেরদাউস হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বিষয় হয়ে ওঠে মুফতি ফেরদাউস হাসানের ভূমিকা। সাংবাদিকরা জানতে চান, দুটি মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে তিনি মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং লালমনিরহাট আদালতে এফিডেভিট করতেও সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । তবে এসব বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৌশলে উত্তর দেন মুফতি ফেরদাউস হাসান। সাংবাদিকরা জানতে চান, ফেরদাউস হাসানের বাসায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ইসকন সদস্যদের ২৫-৩০ জন হামলা করেছে— আপনাদের এ দাবি কতটুকু সত্য? জবাবে মুফতি ফেরদাউস হাসান বলেন, “আমি পুলিশের সঙ্গে হাতে লাল সুতা বাঁধা সিভিল পোশাকধারী লোকজনকে দেখেছি।” তিনি ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করেছেন বলেও জানান, তবে সাংবাদিকদের সামনে কোনো প্রমাণ উপস্হাপন করতে পারেন নি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মুফতি আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বলেন, “চলমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা আপাতত কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। বিশেষ করে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা চাই হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক। তবে এর মধ্যে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কিংবা পূজা মণ্ডপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়, তার দায়ভার আমরা নেব না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টির সমাধান চাই। তবে দুর্গাপূজা শেষে যদি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের ডাক দেবো।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আলেমরা বারবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবের সময় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না ঘটাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন এবং কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের এস পি, নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ, রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ সহ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের স্থায়ী বহিস্কার দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাগেশ্বরীর বিভিন্ন মাদরাসার মুহতামিম ও শীর্ষ আলেমগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন – মাও. মো. আমিনুল ইসলাম, মুহতামিম, জামিয়া হামিউস সুন্নাহ্ কেরামতিয়া মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,মুফতি আব্দুল হান্নান, মুহতামিম, চন্ডিপুর কওমী মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,মাও. সিরাজুল ইসলাম, সান্জুয়ারভিটা কওমী মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,মাও. শহিদুল ইসলাম, মুহতামিম, খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,মাও. আতাউর রহমান, সেক্রেটারী, আযাদী আন্দোলন বাংলাদেশ,মাও. ফেরদৌস, বিশিষ্ট দায়ী, মুহতামিম, সাবিলুর রশাদ মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,আব্দুল মাজিদ, মুহাদ্দিস, জামিয়া হামিউস সুন্নাহ্ কেরামতীয়া কওমী মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,মুফতি নজরুল ইসলাম, মনিরচর কওমী মাদরাসা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম,মো. হয়রত আলী, মুহতামিম, তেলিয়াণী পাড়া মাদরাসা সহ অন্যান্য ওলামকেরামগণ।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন রাজারহাট থানায় জিডি নং ৭৭৮ তারিখ- ১৬/০৯/২০২৫ সুত্র ধরে রাজারহাট থানা পুলিশ নাগেশ্বরী থানার সহযোগীতা চাইলে নাগেশ্বরী থানার দুজন সিভিল পুলিশ সহ রাজারহাট থানার কয়েকজন পুলিশ ও মহিলা পুলিশ মুফতি ফেরদাউস হাসানের বাড়ীতে তল্লাশী চালায়। তিনি বলেন আইন অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা হয়েছে।