
শাহীন শহীদঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম, দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন এবং কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও শিক্ষকদের উপস্হিতি নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আখেরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের কয়েকজন শিক্ষক দীর্ঘদিন কলেজে উপস্হিত হয় না। বিশেষ করে লিয়াকত আলী লাকু ( হিসাব বিজ্ঞান), বেগম রিনা পারভীন(রাষ্ট্র বিজ্ঞান), মিজানুর রহমান ( যুক্তি বিদ্যা), আব্বাস আলী( ইসলামের ইতিহাস) চারজন শিক্ষকের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চারজনের মধ্যে লিয়াকত আলী লাকু ( হিসাব বিজ্ঞান) ৩৬ জুলাইের পর পলাতক, এবং বেগম রিনা পারভীন(রাষ্ট্র বিজ্ঞান) ঢাকায় থাকেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, তারা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে আখেররুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় নি বলে অভিযোগ করেন একাধিক কলেজ শিক্ষক।
এদিকে কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নানা অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে আয়, ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তাঁরা জানান মাউশির তদন্তে কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের মাসিক ভাতা স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে একটি মহল। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাতা স্থগিতের কথা স্বীকার করে বলেন, পাঁচ মাস থেকে ভাতা পাচ্ছিনা তবে আশা করি শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে।
অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন হিসাব স্বচ্ছ ও বিধি সম্মত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে অভিযোগর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।