
শাহীন শহীদঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়—নতুন সরকার গঠন ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বাংলাদেশজাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে জয় নিশ্চিত করে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
দলীয় ঘোষণানুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগেই দলীয়ভাবে তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কেমন হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য?
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত বিশেষজ্ঞ ও জোটসঙ্গীদের ও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
দলীয় কার্যালয় ও শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন, যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় যাদের নাম ঘুরছে, তারা হলেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী,মির্জা আব্বাস,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,ড. আব্দুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু,ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
এছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— খন্দকার মোক্তাদির, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, রেজা কিবরিয়া, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আসাদুল হাবীব দুলু, আফরোজা খানম রিতা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদীন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, আলী আজগর লবী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নজরুল ইসলাম আজাদ, জিকে গউছ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাকারিয়া তাহের সুমন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফজলুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, রফিকুল ইসলাম মজনু, ডা. মাহবুবুব রহমান লিটন, সাইদ আল নোমান, হাবিবুর রশিদ হাবিব, এসএম জিলানী, খন্দকার আবু আশফাক, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং দীপেন দেওয়ান।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবেদলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হুমায়ন কবির এবং মাহদী আমিন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান নেতা মোস্তফা জামাল হায়দারকেও (টেকনোক্রেট কোঠায়)মন্ত্রী সভায় নাম থাকতে পারে।